প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হতে পারে তুরস্কের নতুন রাজনৈতিক দল : জরিপ

আন্তর্জাতিক

আঙ্কারা: তুরস্কের সাবেক মন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের কঠোর সমালোচকের নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল এরদোগানের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থকদের মন জয় করার পাশাপাশি সম্ভবত প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হতে পারে বলে এক জরিপে বলা হয়েছে।

বুধবার দেশটির বিশিষ্ট সার্ভে প্রতিষ্ঠান ‘জেসিসি’র এক জরিপে এই কথা বলা হয়েছে।

নতুন প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই দলের নাম ‘আইয়ি পার্টি’ (গুড পার্টি)। চলতি মাসের শুরুতে দলত্যাগী জাতীয়তাবাদী আইনপ্রণেতা মেরাল আকসেনারের নেতৃত্বে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

জেসিসির জরিপে বলা হয়, নতুন প্রতিষ্ঠিত এই দলটি তুর্কি রাজনীতিতে একটি নাটকীয় পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষকরে মোস্তফা কামাল আতার্তুকের প্রতিষ্ঠিত ধর্মনিরপেক্ষ পিপল রিপাবলিক্যান পার্টির (সিএইচপি) ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। তুর্কি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সিএইচপি তুর্কি রাজনীতির বড় অংশকে প্রভাবিত করেছিল।

৫৫০ আসন বিশিষ্ট পার্লামেন্টের সংসদ সদস্যের মধ্য মাত্র পাঁচজন সদস্য আকসেনারের দলের সঙ্গে যোগদান করলেও জরিপে বলা হয়েছে যে দলটি এরদোগানের ইসলামপন্থী একে পার্টির পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষ বা জাতীয়তাবাদী বিভিন্ন দলের সমর্থক ভোটারদের মন জয় করতে পারে।

একটি স্ন্যাপ নির্বাচনে কোন দলকে ভোট দেবেন- প্রায় ৪,৬৩৮ জন উত্তরদাতা এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে ‘জেসিসি’। যদিও তুরস্কের পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০১৯ সালে।

জরিপে দেখা যায়, ২০০২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এরদোগানের ক্ষমতাসীন একে পার্টির সমর্থন ২০১৫ সালের নভেম্বরে সংসদ নির্বাচনের আগে ৪৯.৫ শতাংশ থেকে ৪৩.৫ শতাংশে নেমে আসে।

এতে বলা হয়, আকসেনারের পার্টি ১৯.৫ শতাংশ ভোট পাবে। অন্যদিকে, ধর্মনিরপেক্ষবাদী পিপল রিপাবলিকান পার্টির (সিএইচপি) পাবে ১৮.৫ শতাংশ ভোট। এর ফলে তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের প্রতিষ্ঠিত সিপিপি আর প্রধান বিরোধী দলে থাকছে না।

সূত্র : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রকে সভ্য রাষ্ট্র বলা যায় না: এরদোগান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সভ্য রাষ্ট্র বলা যায় না। দেশটিতে এমন কিছু সমস্যা আছে যা অন্যান্য দেশের জন্য সুখকর নয়।

শনিবার ইস্তাম্বুলের হালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিভিলাইজেশন ফোরাম’- এ বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে দেশটিতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার ওপর হামলা হয়। আমার নিরাপত্তারক্ষীরা সেই হামলা প্রতিরোধ করে। এ ঘটনায় তারা কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো আমার নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

এরদোগান অভিযোগ করেন, এতে বোঝা যায় দেশটিতে কোনো সমস্যা আছে। এজন্য আমি খুবই দুঃখিত। আর যাই হোক যুক্তরাষ্ট্রকে সভ্য রাষ্ট্র বলা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমরা বিতাড়িত হচ্ছে। দেশটি এমন এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা বিশ্ব নীতিকেই প্রভাবিত করছে।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে এরদোগানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় সেখানে তুরস্কের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষ হয়। এসময় টেরোরিস্ট অর্গানাইজেশন-এর ৪০ থেকে ৫০ সদস্য একত্রিত হয়ে হামলার চেষ্টা করে।

Leave a Reply