গয়েশ্বরের প্রশ্ন,অসুস্থতার কারণে সিনহাকে ছুটিতে পাঠানো হলে প্রধানমন্ত্রীকে কেন নয়

রাজনীতি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এক মাস হয় দেশে ফিরেছেন। কিন্তু তিনি অফিস-আদালতে যাচ্ছেন না কেন? তিনি কি অসুস্থ? আমরা দেখলাম প্রধান বিচারপতি অসুস্থ বিধায় তাকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করলেন। অথচ যাওয়ার সময় বললেন তিনি সুস্থ।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ হয়ে থাকলে তাকেও ছুটিতে যাওয়া উচিত। প্রধান বিচারপতিকে যে আশঙ্কার কারণে অসুস্থতার কথা বলে ছুটি দিয়ে বিদায় দেয়া হয়েছে, আজ জনগণের আশঙ্কা ও অস্বস্তি কাটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকেও ছুটিতে যাওয়া উচিত।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জ-২ এ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জিয়া নাগরিক ফেরাম (জিনাফ)।

‘আগামী নির্বাচনে যেকোনো প্রতিকূল অবস্থায় বিএনপি অংশগ্রহণ করবে।’ ব্যারিস্টার মওদুদের এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর বলেন, ‘আমি এখানে একটু সংশোধন করতে চাই- দেশে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকূল অবস্থা নিরসন না করে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। জনগণের ভোটে কোনো ধরনের বাধার প্রসঙ্গ থাকলে সে নির্বাচনে বিএনপি যাবে না।’

তিনি এও বলেন, ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ সালে গণতন্ত্রকে প্রথম বাক্সে বন্দি করা হয়, পরে ৭ নভেম্বর তা উদ্ধার হয়। আবার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রকে গুম করা হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রকে ক্রসফায়ারে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন। কিন্তু সেটা করতে দেওয়া হবে না।

সংগঠনের সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ প্রমুখ।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, গণজোয়ারের কাছে সরকার জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকার সমঝোতায় না আসলে দেশের মাটিতে গণবিস্ফোরণ হবে।

২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিবেই জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ প্রবীণ সদস্য বলেন, এই নির্বাচনে গণজোয়ার হবে। সরকার সমঝোতায় না আসলে দেশের মাটিতে গণবিস্ফোরণ হবে। কারণ এ সরকারের অত্যাচারে মানুষের ধর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া মানুষের এখন অন্য কোনো পথ নেই। ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে তারা একটি সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দল।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার সংলাপ সমঝোতা করতে বাধ্য হবে। কারণ বিএনপি ছাড়া দেশে আগামী নির্বাচন হবে না। যে কোনো প্রতিকূল অবস্থায় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবো।

বিএনপির এ নীতিনির্ধারক বলেন, সরকারের নিকট থেকে জনগণ একটা কথাই শিখছে তা হলো ‘সদা সর্বদা মিথ্যা কথা বলিবে’। কক্সবাজারে যাওয়ার পথে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা কারা করেছে তা সবাই জানে। এমনকি যারা এ হামলাকে অস্বীকার করছে তারাও জানে এটা ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের সন্ত্রাসীরা করেছে। কিন্তু মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে লজ্জাজনক ভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের উপর সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা করেছে। কারণ তারা গণমাধ্যম এবং দেশের মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। সে কারণেই শুধু গাড়িবহরে নয়, গণমাধ্যমের উপর হামলা করেছে ছাত্রলীগ যুবলীগের সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরো বলেন, আমাদের নেত্রী আরো যাবেন। একটা অংশে মানুষের ঢল দেখেই এমন করছেন আপনারা? গাড়িবহরে হামলা করে বিএনপি এবং জনগণের অগ্রযাত্রা বন্ধ করা যাবে না। আরো সফরে যাবো আমরা। দেখবো কত বহরে আপনারা হামলা করতে পারেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মো. রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ।

Leave a Reply