ম্যাডাম যেভাবে আছেন সেভাবেই থাকবেন : বিচারক

জাতীয়

বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত। পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে ৯ নভেম্বর। আদালতের বিচারক এও বলেন, ম্যাডাম যেভাবে আছেন সেভাবেই থাকবেন। অর্থ্যাৎ পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন।

বৃহস্পতিবার ১১টা ২৫ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হলে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় তার আইনজীবীরা স্থায়ী জামিন আবেদন করেন।

আইনজীবীরা অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ ধার্য তারিখ পর্যন্ত না দিয়ে বেশি মেয়াদ দেয়ার আবেদন করেন।

জামিন আবেদনের সময় খালেদার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন জানান, খালেদা জিয়া এদেশের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি পালিয়ে যাওয়ার মতো নেত্রী নন। তিনি কখনো আদালতের মিস ইউজ করেননি। তিনি বয়স্ক নারী। চিকিৎসার জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন। পূর্ণ চিকিৎসা করতে পারেননি। আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে হাজিরা দেয়ার জন্য দেশে ফিরেছেন।

আদালতের প্রতি আমাদের আবেদন, সব বিষয় বিবেচনা করে আদালত যেন মামলার জামিন স্থায়ী করেন।

এ সময় খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালতের বিচারক জানান, ম্যাডাম যেভাবে আছেন সেভাবেই থাকবেন। অর্থ্যাৎ পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের পর অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ ধার্য তারিখ পর্যন্ত বহাল রাখার আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষের আনইজীবীরা। তাদের দাবি, খালেদা জিয়া আদালতের আদেশের মিস ইউজ করেছেন।

এর আগে আদালতে আসার জন্য সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে থেকে বের হন বিএনপি চেয়ারপারসন। পরে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তিনি আদালতে পৌঁছান।

গত ১৯ অক্টোবর দুই মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে বিশেষ আদালতে প্রথম বক্তব্য উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়া। ওইদিন জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ আদালতে আত্মসমর্পণ করে এক লাখ টাকার মুচলেকায় জামিন পান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

পরে ২৬ অক্টোবর রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. খতারুজ্জামানের আদালতে দ্বিতীয় দিনের মতো আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। এরপর আদালত মামলার শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশিদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

Leave a Reply