খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

রাজনীতি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। ঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে জেলা শহরে এবং শনিবার রাজধানীর থানা পর্যায়ে প্রতিবাদ সভা কর্মসূচি পালন করা হবে।

বুধবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, বিএনপি কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংলাপ প্রয়োজন।

সংলাপ সম্মেলনে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়া কক্সবাজার যাওয়ার পথে গাড়িবহরে হামলা এবং আসার পথে বোমাবাজি ও দুটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এর প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।

জনগণের হাড়গোড় চিবিয়ে আ.লীগ ভয়ঙ্কর নরপিশাচে পরিণত হয়েছে: খালেদা
এর আগে মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের বর্বরতম পরিকল্পনারই বোমা নিক্ষেপসহ দুুটি গাড়ীতে আগুন লাগিয়ে সন্ত্রাসীরা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে খালেদা জিয়া বলেন, আজও আমার গাড়ীবহর ঢাকা যাবার পথে ফেনী শহর অতিক্রম করার সময় পেট্রোল বোমা নিক্ষেপসহ দুুটি গাড়ীতে আগুন লাগিয়ে সন্ত্রাসী আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, এটা সরকারের বর্বরতম পরিকল্পনারই অংশ।

পুনরায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলাকে কাপুরুষোচিত আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো আধুনিক রাজনৈতিক দল নয়, এটি সন্ত্রাসীদের আখড়া। এরা সবসময় রক্ততৃষ্ণায় কাতর থাকে। এই দলটি দেশকে হত্যা, দখল, হাঙ্গামা, রক্তারক্তি ও খুনোখুনীতে ভরিয়ে দিতে চাচ্ছে। এই দলটির পরতে পরতে জড়িয়ে আছে মানবাত্মার অবমাননার বিভিন্ন দিক।

জনগণের হাড়গোড় চিবিয়ে আওয়ামী লীগ ভয়ঙ্কর নরপিশাচে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এই পিশাচদের দোর্দন্ড পদচারণার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে ফেনী জেলাকে। ফেনী শহর এখন বিবেকবর্জিত সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য- বলে উল্লেখ করে তিনি।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয়ে সহায়তা দিতে বাধা দানের উদ্দেশ্যে তারা আমার গাড়ী বহরে চৈতন্যহীন বর্বর আক্রমণ চালাতে দ্বিধা করেনি। শুধু অসংখ্য গাড়ী কিংবা দলের নেতাকর্মীদেরকে আঘাত করা নয়, তারা দায়িত্বরত গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপরও নৃশংস আঘাত করেছে।

বেগম জিয়া আজ গাড়ীবহরে হামলার ঘটনায় জড়িত দুস্কৃতিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহবান জানান।

টেস্ট কেস হিসেবে বিএনপি দুইটি বাসে আগুন দিয়েছে: ওবায়দুল কাদের
অন্যদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী সার্কিট হাউজে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে ফেনীতে বাসে আগুন ও বোমাবাজির ঘটনার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আগুন দিয়ে বাস পোড়ানো বিএনপির পুরোনো অভ্যাস। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে সারাদেশে আগুন সন্ত্রাস ও তাণ্ডব চালিয়েছে। সে স্মৃতি এখনো মানুষের মনে আছে। মানুষ ভুলে যায়নি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে ফেনিতে একটি ঘটনা ঘটালেন, নিজেরা নিজেদের উপর হামলা করে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে, সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপালেন, একটি অপপ্রচারের সুচনা করলেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার গাড়িতে কোনো হামলা হয়নি। তিনি অক্ষত রয়েছেন। তার কোনো নেতাও আহত হননি। শুধু আক্রান্ত হলো সাংবাদিকরা। এ থেকেই বোঝা যায় তাদের উদ্দেশ্য। তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটা বড় নিউজ করতে হবে। কোনো নিউজ তো হচ্ছিল না, এ একটা নিউজ করে দেখানো এবং সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপানো। এটাই ছিল তাদের উদ্যেশ্য।

তিনি বলেন, ফেরার পথে ফেনীর আগে খালেদা জিয়ার গাড়ি পার হয়ে অনেক দুর পাওয়ার পর পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা দুইটি বাসে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেরাই পাউডার ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। দেশে আবারো আগুন সন্ত্রাস চালানো যায় কিনা তার একটি টেস্ট কেস হিসেবে বিএনপি দুইটি বাসে আগুন দিয়েছে বলেন সেতুমন্ত্রী।

এর আগে বিকেলে সেতুমন্ত্রী রাজশাহী সড়ক ভবনে সওজের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন উপস্থিত ছিলেন।

সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে এ প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, দুর্বৃত্তের কোনো দল নেই। এ ঘটনায় আমরা নিন্দা জানিয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি গোটা বাঙালী জাতিকে গর্বিত করেছে। বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামী লীগের নয়, বঙ্গবন্ধু পুরো বাঙালি জাতির। তার ভাষণকে স্বীকৃতি দেয়া মানে পুরো বাঙালি জাতিকে স্বীকৃতি দেয়া। গোটা বিশ্বে ৩৫ কোটি বাঙালির এটা একটা বিশাল অর্জন।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে অনেক নেতাই ভাষণ দিয়েছেন। অনেকে দেখে দেখে বক্তব্য দিয়েছেন। অনেকে নোট নিয়েছেন। কিন্তু মার্চে বঙ্গবন্ধু কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়াই উপস্থিত জ্ঞ্যান থেকেই ভাষণ দিয়েছেন। সেই ভাষণ বাঙালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। সেই ভাষণ আজও বাঙালী জাতিকে প্রেরণা দেয়, উদ্দীপনা জাগায়।

সাংবাদিকের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের জন্য নয়, পরবর্তী জেনারেশনের জন্য রাজনীতি করেন। আগামীর নির্বাচনে মনোনয়নের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কোন প্রার্থীকেই এখনো সিগন্যাল দেয়া হয়নি। তবে তালিকা তৈরীর কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

রাজশাহী সড়ক ও জনপদের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু রওশনসহ উপস্থিত বিভাগের প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাকে বদনামের ভাগিদার করবেন না। সৎ ভাবে কাজ করতে হবে। মাঝেমাঝে আমি লজ্জায় পড়ি। দশদিন আগে কাজ শেষ হয়েছে, একদিনের বৃষ্টিতেই সেই নতুন সড়ক নষ্ট হয়ে যায়। এ ফাঁকি জনগণকে দেয়া, এ ফাঁকি নিজের বিবেককে দেয়া, সর্বোপরি এক ফাঁকি দেশকে দিচ্ছি আমরা। কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ করতে হবে। সরকারের সামনে এক বছরের মতো সময় আছে। আগামী নির্বাচনের আগে একটি সড়কও খারাপ থাকবে না বলেন সেতুমন্ত্রী।

এ সভায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply