বিজেপি নেতা মিঠুন চৌধুরীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন তার পরিবার

সিলেট বিভাগ

বাংলাদেশ জনতা পার্টি (বিজেপি) সভাপতি মিঠুন চৌধুরীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে তার পরিবার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য তাকে আটক করেছে বলে দাবি করেছেন স্ত্রী সুমনা চৌধুরী সীমা। গত ৫দিন ধরে মিঠুন চৌধুরীর কোন খোঁজ খবর পাচ্ছেন না জানিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার সন্ধান না পেলে আন্দোলনেরও হুমকি দেন সীমা। মঙ্গলবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথাগুলো বলেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সীমা বলেন, আমার স্বামীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকলে তা আমরা আইনীভাবে মোকাবেলা করব। কিন্তু জানিনা কি অভিযোগে তাকে ও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা আশিক ঘোষ অসি কে আটক করা হয়েছে। আর করে থাকলেও কেন তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। এ নিয়ে আমার শ্বাশুরী ও গ্রামের বাড়ীর লোকজন চরম দুশ্চিন্তায় ভোগছেন। আমার ছেলে কৃষ্ণরঞ্জন চৌধুরী মিশম ও মেয়ে ঐশ্ব্যরিয়া চৌধুরী মিশমা দু’জনই তাদের বাবার জন্য মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেই সাথে আশিষ ঘোষের তিন ছেলেমেয়েও তাদের বাবার জন্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
সীমা জানান, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১২ টা ১০ মিনিটে বিজেপি’র সভাপতি ও মুখ্যপাত্র মিঠুন চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় নেতা আশিক ঘোষ অসিত সহ দুইজনকে ঢাকার সূত্রাপুর থানার পরাশগঞ্জ, প্রিয় বল্লব জিউর মন্দির গেইট লেবুপট্টি মার্কেটের সামনে থেকে একটি কালো গাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিভিল ড্রেসে আটক করে নিয়ে যায়। এ খবর পাওয়ার পরই আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। পার্টির নেতারা আমাকে জানিয়েছেন, তারা গোয়েন্দা শাখায় গিয়ে যোগাযোগ করলেও কেউ এর সত্যতা স্বীকার করছেন না। এছাড়া তার নিখোঁজের বিষয়ে সূত্রাপুর থানায় একটি জিডি করতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, কাউন্টার টেরিরেজম থেকে তাদেরকে আটক করা হয়েছে এবং জিডি নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, আমার স্বামী মিঠুন চৌধুরী দীর্ঘদিন থেকে দৈনিক ‘বাংলার মুক্তাঙ্গন’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান আদিবাসী পার্টি যা বিগত ১৯ মার্চ ২০১৪ইং তারিখে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটে আত্মপ্রকাশ করেন। তা বাংলাদেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর পার্টির মুখ্যপাত্র হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছিলেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দলের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জনতা পার্টি (বিজেপি) নামের একটি দলের আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি আলোচিত হন এবং দলের সভাপতি ও মুখ্যপাত্র হিসেবে বাংলাদেশ জনতা পার্টি ব্যানারে তিনি বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যান।
আজ (মঙ্গলবার) ৫দিন অতিবাহিত হলেও আমি জানিনা আমার স্বামী কোথায় কিভাবে আছেন দাবি করে সীমা আরো বলেন, আমার স্বামী এ দেশের একজন নাগরিক। তার রাজনীতি বা দল করার অধিকার রয়েছে। যদি তাকে গোয়েন্দা পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য কোনো সদস্যরা আটক করে থাকেন তাও জানার অধিকার আমাদের রয়েছে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত জানিনা কে বা কারা আমার স্বামীকে আটক করেছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা, প্রধানমন্ত্রী, বিশ্ব নেত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অতি দ্রুত তার স্বামীর সন্ধান বের করে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মিঠুন চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় নেতা আশিষ ঘোষ অসিতকে সুস্থ অবস্থায় আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। অন্যথায় সারাদেশে আন্দোলনের হুমকি দেন সীমা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক স্বপন বর্মন, মিঠুন চৌধুরীর ভাই ননী গোপাল বর্মন, ছেলে কৃষ্ণরঞ্জন চৌধুরী মিশম ও মেয়ে ঐশ্ব্যরিয়া চৌধুরী মিশমা। প্রেস-বিজ্ঞপ্তি।

Leave a Reply