বাস টার্মিনালে গোলাগুলি : জেলা যুবলীগ সেক্রেটারীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সিলেট বিভাগ

প্রকাশ্য আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সিলেটের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রেস্টুরেন্ট দখলের ঘটনায় সিলেট জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন কামরানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আর ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে শ্রমিকদের হামলায় গুরুতর আহত শাহীনকে। শাহীন বর্তমানে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হামলার ঘটনায় সিলেটের পরিবহন শ্রমিকরা বুধবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে তারা ধর্মঘট স্থগিত করে। এরপর শুক্রবার সিলেট জেলা মিতালী পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইজ উদ্দিন দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করেছেন।
ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সিলেট জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন কামরানকে। এছাড়া মামলায় যুবলীগ নেতা সোহেল খান, দুলাল আহমদ, সাহেদ আহমদ ও গুরুতর আহত হওয়া ছাত্রলীগ নেতা শাহীনকে আসামি করা হয়েছে।
দক্ষিন সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল জানিয়েছেন- পরিবহন শ্রমিক নেতাদের এজাহারের দাখিলের প্রেক্ষিতে থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। অবৈধভাবে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয় বলে জানান তিনি। পুলিশ এখন আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল ঘটনার পর টার্মিনাল এলাকায় ছুটে যান। দেখেন কয়েকশ’ শ্রমিক বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এই সময় দেখতে পান শ্রমিকরা ছাত্রলীগ নেতা শাহীনকে লাঠিসোটা দিয়ে আঘাত করছে। সেখানে পৌঁছে ওসি শাহীনকে ঝাপটে ধরেন এবং শ্রমিকদের অনুরোধ করেন শ্রমিকদের শান্ত থাকার কথা বলেন।
ওসি বলেন- স্থানীয় শিরুল মিয়া নামের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় তিনি শাহীনকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে টানা দুই দিন চিকিৎসা প্রদান করলেও জ্ঞান ফিরেনি শাহীনের।
সিলেটের ডাক্তাররা জানান- শাহীনের অবস্থা গুরুতর। এরপর বুধবার বিকেলে শাহীনকে বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার বিকেলে তার অবস্থার অবনতি হলে এপেলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply