১০ উইকেটে লজ্জার হার টাইগারদের!

খেলার খবর

প্রথম ওয়ানডেতে ২৭৮ রান করেও ১০ উইকেটের হার। এতে মুশফিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিটা যেন বৃথা গেল। এমন লজ্জার হার কেউ ভাবতেও পারেননি, এরপরও বাস্তবে এই দৈন্যতা টাইগারদের।

বাংলাদেশের ২৭৯ রানের টার্গেট পেরিয়ে দুই প্রোটিয়া ওপেনারের ব্যাট থেকে আসা দুই সেঞ্চুরীতে ভালভাবেই জয় পেয়েছে স্বাগতীকরা। কুইন্টন ডি ককের ১৬৮ ও হাশিম আমলার ১১০ রানের দীর্ঘ জুটিতে ৪১.৫ ওভারে বিনা উইকেটেই জয়ের বন্দরে পৌছায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

কিম্বার্লিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে ২৭৮ রানের রেকর্ড করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

এর আগে ২০০২ সালে বেনোনিতে ওপেনিংয়ে ১৫৫ রানের জুটি গড়েছিলেন হার্শেল গিবস ও গ্রায়েম স্মিথ। উদ্বোধনী জুটিতে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় স্কোর। ২০১৫ সালে রিলে রুশো ও আমলা মিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে উদ্বোধনী উইকেটে ২৪৭ রান করেন। এত বড় রান তাড়া করে প্রোটিয়ারা এর আগে কখনই ১০ উইকেটে জিততে পারেনি। ২০০৫ সালে ভারতের বিপক্ষে ১৮৯ রান তাড়া করে ১০ উইকেটে জয় পায় প্রোটিয়ারা।

এর আগে স্বাগতিকদের সামনে ২৭৯ রানের বড় স্কোর দাঁড় করায় মুশফিকরা। এর মধ্যে মুশফিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরী ও সাকিবের পাঁচ হাজার রান ও ২০০ উইকেট নেওয়া পঞ্চম অলরাউন্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন ছাড়া আর কিছু পায়নি টিম বাংলাদেশ।

এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে সাত উইকেটে ২৭৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। মুশফিকের ১১০, সাইফউদ্দিনের ১৬, নাসিরের ১১, সাব্বির রহমানের ১৯, রিয়াদের ২৬, সাকিবের ২৯, লিটন ও ইমরুল কায়েসের ২১ ও ৩১ রানের সুবাদে প্রোটিয়াদের ২৭৯ রানের লক্ষ্য দেয় তারা।

শুরুটা নিষ্প্রভ হলেও ভাল শুরু করেন লিটন। রাবাদার ইনসুইং বলটা ব্যাটে লেগে স্লিপে দাঁড়ানো ফাফ দু প্লেসিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। এর পর ইমরুলকে কুইন্টন ডি ককের ক্যাচে পরিণত করেন প্রিটোরিয়াস। চমক দিয়ে সাকিব ব্যাট করতে নামেন তিন নম্বরে। ভালো শুরু করার একটা সাড়া তৈরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্র ২৯ রান করে আউট হন তিনি। পরে মুশফিক জুটি বাধেঁন মাহমুদউল্লাহর সাথে। কিন্তু শুরু করেই শেষ রিয়াদ। প্রিটোরিয়াসের বলটাকে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে মিড অফে ডেভিড মিলারের তালুবন্দি হন তিনি। এর পর তার পথ ধরেন সাব্বির রহমান।

ওদিকে দলকে একাই টেনে নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ৪৩তম ওভারে ইমরান তাহিরকে চার মেরে ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে যান মুশি। রাবাদার করা ৪৬তম ওভারে তৃতীয় বলে দুই রান নিয়ে শতক পূর্ণ করেন তিনি। ওয়ানডেতে মুশির এটি পঞ্চম শতক। এরপর নাসির হোসেনকেও হারায় বাংলাদেশ। তবে মুশফিকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে শেষ পর্যন্ত ২৭৮ রান তোলে বাংলাদেশ। ১১০ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশি। ইনিংসের শেষ বলে আউট হন ১৬ রান করা সাইফুদ্দিন। এ যেন চরম লজ্জার হার টাইগারদের।

Leave a Reply