গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে খালেদা জিয়া দেশে ফিরছেন ১৮ অক্টোবর

রাজনীতি

পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী ১৮ অক্টোবর দেশে ফিরছেন। শনিবার রাত ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান।

শায়রুল কবির খান জানান, আগামী ১৭ অক্টোবর এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়া দেশের উদ্দেশে রওনা দিবেন। ফেরার পথে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিমানবন্দরে যাত্রা বিরতিতে দেশটির প্রবাসী বিএনপি নেতাদের এক প্রতিনিধিদলের সাথে দেখা করবেন। পরে ১৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নভেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও মূলত সুষমা স্বরাজের সাথে ২৩ অক্টোবর বৈঠকের সিডিউল পাওয়ার পরই বিএনপি নেত্রী তার ফেরার তারিখ পরিবর্তন করে এগিয়ে নিয়ে এসেছেন।

এদিকে, পাঁচ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসনের মনোভাব বা প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে যুক্তরাজ্য বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, ওইসব মিথ্যা মামলা নিয়ে তিনি বিচলিত নন। মামলাগুলো তিনি আইনগতভাবে মোকাবেলা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে লন্ডনে এসব মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানহানির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

ওইদিন সকালে প্রথমে মানহানির অভিযোগে করা মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর হাকিম নূর নবী।

তার কিছু পরেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানিতে হাজির না হওয়ায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালতের জজ আক্তারুজ্জামান।

এই মামলায় হাজির হওয়ার জন্য বারবার সমন দেওয়ার পরও খালেদা জিয়া হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সকালেই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুর নবীর আদালতে উপস্থাপন করা হলে বাদীর উপস্থিতিতে আদালত পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

একই সঙ্গে আগামী ১২ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুর নবী আদেশে বলেছিলেন, ৫ অক্টোবর আত্মসমর্পণ না করলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। কিন্তু ৫ অক্টোবরও হাজির না হওয়ায় আদালত ১২ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার ৯ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নোয়াবাজার এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা হামলার পৃথক দুুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান বেগম জিয়া। ৩ মাসের বেশি সময় বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় থেকে চিকিৎসা শেষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরছেন তিনি। খালেদা জিয়ার নামে কুমিল্লায় দুই মামলায় ও ঢাকায় তিন মামলায় বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এদিকে বেগম খালেদা জিয়াকে বিমানবন্দরে বড় ধরনের গণসংবর্ধনা দিতে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি।

Leave a Reply