প্রধান বিচারপতি সিনহা বিদেশে যাচ্ছেন আজ

জাতীয়

লম্বা ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা। তার এই ছুটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু ওইসব প্রশ্নের সঠিক কোনো উত্তর মিলছে না। শোনা যাচ্ছে আজ শুক্রবার বিকেলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবেন বলে জানান আইনমন্ত্রী। চিকিৎসার জন্য প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, গতকাল প্রধান বিচারপতির বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। এদিকে গত ১ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকে সরকার দলীয় মন্ত্রী ও এমপিদের সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধান বিচারপতি। এ সময় প্রধান বিচারপতিকে অপসারণেরও দাবি করা হয়। সমালোচনার মধ্যেই গত ১০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা দেশের বাইরে ছুটিতে ছিলেন। ছুটি শেষ হওয়ার পূর্বেই ২ অক্টোবর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এক মাসের ছুটির আবেদন করেন তিনি। পরে ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বাইরে থাকার অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। তার ওই আবেদনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ স্বাক্ষর করেন। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে জোর করে ছুটি দিয়ে দেশের বাইরে পাঠানোর ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট চত্বর এবং দেশের সকল আদালত অঙ্গনে পালিত হয়েছে লাগাতার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি। : প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে নানা প্রশ্ন : প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ছুটিতে যাওয়া নিয়ে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আইনাঙ্গনসহ সারাদেশে তোলপাড় চলছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে এ ইস্যুতেই দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে সবখানে নানা গুঞ্জন। প্রতিদিনই নতুন নতুন মোড় নিচ্ছে এ ঘটনা। কখনো প্রচার হচ্ছে, ‘ছুটি চেয়েছেন’ প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। এবার লম্বা ছুটি পেয়ে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমানোর খবরটি নিয়েই সবাই এখন মুখর। এই প্রশ্ন শুরু হয় গত ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা এক মাসের ছুটিতে যাচ্ছেন এই খবর থেকেই। তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটি চেয়ে আবেদনপত্রও পাঠান। ছুটির আবেদনপত্রে ক্যান্সারসহ অসুস্থতার কথা প্রথম প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তাদের এই খবরটিতে অনেকেই বিস্মিত হন। আইনমন্ত্রী ঢাকঢোল পিটিয়ে সাংবাদিকদের সামনে প্রধান বিচারপতির লেখা চিঠি পড়ে শোনান। প্রধান বিচারপতি শারীরিকভাবে অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য তিনি ছুটি চেয়েছেন। বলা চলে তখন থেকেই এস কে সিনহার এক মাসের ছুটি কার্যকর। প্রধান বিচারপতির ছুটির আবেদনে ৯টি বানান ভুল ধরা পড়ে। এ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুলে ভরা এ আবেদনপত্রটি ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। : প্রধান বিচারপতি গৃহবন্দি কি-না এ বিষয়টি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। এসকে সিনহার ছুটির কথা যেদিন প্রচারিত হয়, ওইদিন দুপুর পর্যন্ত তিনি অফিস করেছেন যথানিয়মে। অসুস্থতার কারণে আদালত থেকে সরাসরি হাসপাতালে যেতে হয়নি। নিজের বাসায় যাওয়ার পরও গত এক সপ্তাহে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। এর আগে কখনো স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আইসিডিডিআরবিতে যাননি তিনি। এসকে সিনহার বাসভবনে চিকিৎসকরা আসছেন। কখনও বা তিনি পূজা দিতে যাচ্ছেন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। ভিসার জন্য অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনেও গেছেন তিনি। ইতিমধ্যে তিন বছরের ভিসাও পেয়েছেন। গতকাল তার জিও লেটার ইস্যু হয়েছে। তার জিও লেটার নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। : গত মঙ্গলবার হঠাৎ করেই প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ‘ছুটির গল্পে’ নিয়েছে নতুন মোড়। ‘১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত’ বিদেশে থাকতে ইচ্ছুক জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর হয়েছে। ২ অক্টোবর থেকে এক মাসের ছুটি। এর মধ্যেই অস্ট্রেলিয়া সফর সেরে আসবেন এসকে সিনহা। আর এখন ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর আবার ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এই দুই রকম চিঠি নিয়েই যত ধূম্রজাল। আসলে কী হচ্ছে প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে? প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা নিজেই ছুটিতে গিয়েছেন নাকি তাকে ছুটিতে যেতে সরকার বাধ্য করেছে। : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেও পুলিশ বাধা দিয়েছে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিন অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে চাপের মুখে ছিলেন প্রধান বিচারপতি। সে প্রেক্ষাপটে সরকারের চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি ছুটিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এর প্রতিবাদে আইনজীবী সমিতির সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন আর অবস্থান কর্মসূচির মাঝে স্পষ্ট ফুটে উঠছে। : তার এই ছুটি ‘স্বাভাবিক’ বিষয় না। ছুটি নিয়ে সন্দেহ পোষণকারীদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রশ্ন রেখেছেন, ‘তিনি কি অসুস্থ হতে পারেন না?’ সত্যিই তো, প্রধান বিচারপতির মতো সাংবিধানিক দায়িত্ব তো আর ব্যক্তি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অসুস্থ হওয়া ঠেকিয়ে রাখতে পারে না! রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় এবং প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা বেশ কঠিন। : প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে এর একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা চেয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বামদলগুলোর পক্ষ থেকেও। সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা বলেছে, ছুটি ও বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশবাসীর মনে সন্দেহ, অবিশ্বাস ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে : :

Leave a Reply