চিকিৎসায় নোবেল পেলেন তিন মার্কিনি বিজ্ঞানী

আন্তর্জাতিক

স্টকহোম : চিকিৎসাশাস্ত্রে অবদান রাখায় চলতি বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন- জেফরি সি হল, মাইকেল রোশবাশ ও মাইকেল ডব্লিউ ইয়াং। স্থানীয় সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা) সুইডেনের স্টকহোমে নোবেল পুরস্কার কমিটি যৌথভাবে এই তিন মার্কিন নোবেল জয়ীর নাম ঘোষণা করে।

পুরস্কার হিসেবে তারা ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ মার্কিন ডলার) পাবেন। আর এর অর্থ তিন চিকিৎসককে ভাগ করে দেয়া হবে। বায়োলজিকাল ক্লকস নিয়ন্ত্রণে মলিকিউলার মেকানিজম আবিষ্কারের স্বীকৃতি স্বরূপ তারা এই পুরস্কার পেয়েছেন।

সুইডেনের কালোনিসকা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাদের আবিষ্কারের মাধ্যমে জানা যায় মানুষ, উদ্ভিদ ও প্রাণীরা কিভাবে জৈবিক ছন্দে অভ্যস্ত হয় এবং তার মাধ্যমে কিভাবে পৃথিবীর বিপ্লব ঘটেছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা জানি যে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অভ্যন্তরীণ একটি বায়োলজিক্যাল ক্লকস আছে। এই ক্লকস প্রাত্যহিক জীবনের নানা ছন্দের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সহায়তা করে।

কিন্তু এই ক্লকস আসলে কীভাবে কাজ করে। জেফরি সি হল, মাইকেল রোশবাশ এবং মাইকেল ডব্লিউ ইয়ং গবেষণার মাধ্যমে আমাদের বায়োলজিক্যাল ক্লকসের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন এবং এর অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন।

এর আগে ২০১৬ সালে চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন জাপানি বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওসোমি।

আগামীকাল ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। মূলত, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেয়া হয়। ১৯০১ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে ১০৮ বার। এর মধ্যে ১২ বার চিকিৎসার নোবেল পেয়েছেন নারীরা। এ ছাড়া মাত্র একজন করে বিজয়ী এই পুরস্কার জিতেছেন ৩৯ বার।

১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে আলফ্রেড নোবেল তার মোট উপার্জনের ৯৪% (৩ কোটি সুইডিশ ক্রোনার) দিয়ে তার উইলের মাধ্যমে নোবেল পুরষ্কার প্রবর্তন করেন। এই বিপুল অর্থ দিয়েই শুরু হয় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান। ১৯৬৮ তে তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি।

পুরস্কার ঘোষণার আগেই মৃত্যু বরণ করেছিলেন আলফ্রেড নোবেল। আইনসভার অনুমোদন শেষে তার উইল অনুযায়ী নোবেল ফাউন্ডেশন গঠিত হয়। তাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায় আলফ্রেড নোবেলের রেখে যাওয়া অর্থের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন করা এবং নোবেল পুরষ্কারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করা। আর বিজয়ী নির্বাচনের দায়িত্ব সুইডিশ একাডেমি আর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিকে ভাগ করে দেয়া হয়।

Leave a Reply